smart web source article

ই-কমার্স ব্যবসা জন্য খুবই সুক্ষ্ম ২ টা অব্যর্থ উপায় বা টনিক

ই-কমার্স ব্যবসার প্রসার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বৃদ্ধি পাবে। সেটা কেন, কিভাবে তা ব্যাখ্যা করে বোঝানোর আর দরকার নেই। তবে কেউ কেউ খুব ভাল মত ব্যবসা করতে পারছেন আর কেউ কেউ ব্যবসা করতে পারছেন না।
 
তাই খুবই সাধারণ কিন্তু ই-কমার্স ব্যবসাতে সেল বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপায় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
 
তার আগে চলুন সমস্যাগুলো শুনি এবং সেই সমস্যার উত্তর খুঁজি। অনেকেই বলবেন আরে ভাই রাখেন আমরা সব জানি। যদি এতো জেনেই থাকেন তাহলে মানুষকে জানান, না হলে আলগা পার্ট নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন না প্লিজ।
 
❓ প্রশ্ন-১ঃ ভাই অন্যদের সেই ব্যবসা হয়, পুরাই রমরমা কিন্তু আমার কেন হয় না?
❓ প্রশ্ন-২ঃ ভাই রিপিট কাস্টমারের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েক জন বা নেই বললেই চলে। তাহলে কি মানুষের প্রয়োজন কমে গেল নাকি?
 
আমরা বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বলার চেষ্টা করবো। আশা করি ধৈর্য নিয়ে পড়বেন। এটা ভাববেন না যে বানিয়ে বানিয়ে বলার চেষ্টা করছি। বাস্তব জীবনের সমস্যাকে তুলে ধরবো এবং সমাধানের চেষ্টা করবো।
 
✏ যাদের প্রশ্ন-১ এর সাথে মিল আছে তাদের জন্য আমাদের কিছু প্রশ্নঃ
 
📌 আপনি কি প্রোডাক্ট সম্পর্কে মানে প্রোডাক্টের সোর্সিং, কোয়ালিটি, বাজারের কম্পিটিটিভ প্রাইসিং, প্রোডাক্ট ডেলিভারী প্রসেসিং, সেলের আগে এবং পরে কাস্টমার সাপোর্ট ইত্যাদি সম্পর্কে খুবই ভাল মত অবগত এবং নিয়মিত নিজেকে আপডেটের চেষ্টা করছেন কি না?
 
📌 আপনার যদি অফলাইন দোকান থাকে বা আপনি যদি নতুন হন দুজনের জন্যই ফেসবুক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথেই ওয়েবসাইট সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও এক্টিভিটি বাড়াতে হবে।
 
📌 কিন্তু প্রশ্ন হলো আপনি যখন আপনার পেজে কোন প্রোডাক্ট আপলোড দেন তখন কি প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত আপলোড দেন? মানে যেভাবে আলিবাবা, আলিএক্সপ্রেস, অ্যামাজন ইত্যাদি তাদের প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয় যেন তাদের কাস্টমাররা বিভ্রান্ত না হয়। তার মানে এই না যে তারা ১০০% সঠিকভাবে সবাই তথ্য প্রদান করেন।
 
📌 আপনার ফেসবুক পেজ থেকে মানুষ কেন কিনবে এবং আপনি যদি ক্রেতা হতেন তাহলে কি আপনি আপনার মত পেজ থেকে আসলেই কিনতেন কিনা বা বিশ্বাস করতেন কিনা সেটা ভেবে দেখেছেন তো?
 
📌 আপনি কি মনে করেন পেজ একটা খুললেই হবে তার পেছনে টাকা পয়সা ঢালার মানেই হয় না বা বিনিয়োগ করার মানেই হয় না?
 
📌 আপনি কি আপনার পেজে ও কমিউনিটিতে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন এবং এক্টিভিটি ধারাবাহিক ভাবে করছেন ?
 
📌 অন্যরা কে কি করছে এবং কার কোন বিষয়টি ভালো সেটা কি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে অনুধাবন করবার চেষ্টা করছেন? তবে কপি করার চেষ্টা মোটেও করছেন না।
 
🎯 উপরের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর যদি হয় “না” তাহলে কেন আপনার সেল হবে বা বাড়বে একবার নিজে নিজেই ভাবুন।
 
🎯 উপরের প্রশ্নের উত্তরগুলো সঠিকভাবে পূর্ণ করুন দেখবেন যে সেল হবে। তাই বলে একবারে গাছে উঠা যেমন সম্ভব নয় তেমনি ধৈর্য ধারণের কোন বিকল্প নেয়।
 
 
✏ প্রশ্ন-২ এর সাথে যাদের মনের কথা মিলে যাচ্ছে তাদের জন্য একটা ছোট গল্পঃ
 
মনে করুন, আপনি অনলাইনে মেয়েদের ব্যাগ বা শাড়ি বা কসমেটিক’স বিক্রি করেন। আচ্ছা আরো স্পেসিফিক ভাবে শুধু ব্যাগ দিয়েই উদাহরণ দেয় আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে।
 
আপনি বিক্রেতা যেহেতু তার মানে আপনার অবশ্যই ঐ প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানা উচিত। কি ঠিক বলছি তো?
উত্তর হচ্ছেঃ হ্যাঁ।
 
📌 অনেকে আবার বলবেন, ঐ প্রোডাক্ট তো আমার নিজস্ব প্রোডাকশনের না বা নিজেদের বানানো না তাই জানি না। কিন্তু এটা বলে আপনি আপনার দায় এড়াতে পারবেন না।
 
📌 এবার আপনি যাদের থেকে প্রোডাক্ট নিবেন তাদের এডিট করা ছবির সাথে প্রোডাক্টের আসলেই মিল আছে কিনা এটা জাস্টিফাই করার দায়িত্ব আপনার। তাই সব সময় রিয়েল ছবি এবং ভিডিও দেবার চেষ্টা করুন।
 
📌 আমরা অনেক সময় দেখি ছবিতে ব্যাগ অনেক বড় দেখাচ্ছে কিন্তু বাস্তবে ব্যাগটি ওতো বড় নয় সেক্ষেত্রে কাস্টমারের চাহিদা পূরণে আপনি ব্যর্থ হবেন। সেক্ষেত্রে আপনারা যদি আলিবাবা, আলিএক্সপ্রেস, অ্যামাজনের মত ব্যাগের সাইজ দিয়ে দিতেন বা নিজেদের বাসার কোন স্কেল বা মাপার ফিতা পাশে ঠিক ভাবে রেখে উপস্থাপন করতেন তাহলে কিন্তু কাস্টমার বিভ্রান্ত হতো না।
 
📌 অনেক সময় কালার যেটা দেখে কিনে সেটার সাথে বাস্তবের কালার মিল থাকে না।
 
📌 অনেক সময় বুঝতে পারে না যে ব্যাগের ভেতর আর কোন কমপার্টমেন্ট আছে কিনা। সেক্ষেত্রে যদি ভিডিও করে দিতেন তাহলে বিস্তারিত বুঝতে কাস্টমার সক্ষম হতো
 
📌 প্রোডাক্ট বিক্রির সময় যেভাবে বিনয় দেখান তেমনি রিটার্ন পলিসিতেও বিনয় ভাব ধরে রাখতে হবে। টাকা পেয়ে গেলেই কাস্টমারকে ভুলে যাবার অভ্যাস ত্যাগ করুন।
 
📌 অনেক সময় বিক্রেতারা বলেন যে আরে ভাই প্রোডাক্টের দাম বেশি না। যেমন দাম তেমন প্রোডাক্ট পেয়েছে এতে এতো চিল্লা-পাল্লার কি আছে! দেখুন, তার মানে উপরের যে ব্যাপারটা বললাম যে ছবির সাথে কাস্টমারের চাহিদার মিল ঘটাতে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এই দায় আপনার। কাস্টমার যদি সন্তুষ্ট না হয় তাহলে তারা অন্য মানুষকে বলে বেড়াবে।
 
📌 সেক্ষেত্রে আপনার কাস্টমার রিপিট হবার সম্ভাবনা যেমন কমে যাবে তেমনি নতুন কাস্টমার পাবার সম্ভাবনা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন।
বি.দ্রঃ ব্যাগের ডেমো পিক আপলোড করা হয়েছে। দেখলেই আপনাদের ভুল বুঝতে পারবেন আশা করি
 
🎯 আপনাদের অনেকের মনে হবে গাল গল্প করছি। তাহলে আসুন কিছু পরিসংখ্যান দেখে নেয়-
১। When customers are unhappy, there’s a 91 percent chance they won’t do business with a company again (Lee Resources).
 
২। Dissatisfied customers typically tell nine to 15 other people about their experience; some tell 20 or more (White House Office of Consumer Affairs).
 
৩। A negative customer experience is the reason 86 percent of consumers quit doing business with a company (Customer Experience Impact Report).
 
৪। Good customer experiences lead 42 percent of consumers to purchase again (Zendesk Customer Service Study).
 
 
এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন যে কাস্টমার satisfaction রিপিট কাস্টমার করতে কত বড় ভূমিকা পালন করে।
 
 
এখানকার অনেকগুলো পয়েন্ট নিয়েই বিস্তারিত লেখা সম্ভব। কিন্তু খুব বেশি বড় হয়ে গেলে আপনারা ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন। তবে যদি আপনারা আগ্রহী হন তাহলে সিরিজ আকারে লিখবো।
 
দেখুন ছোট এবং সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম ভুলগুলোই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়। তাই ছোট এবং সুক্ষ্ম ভুলগুলোকে শুধরে নিন এবং নিজেদের অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করুন। সাফল্য ধরা দেবে বিশ্বাস রাখুন।
 
 
Santunu Nag Chowdhury
Digital Marketing Executive
Smart Web Source
URL: www.smartwebsource.com