নতুন উদ্যোক্তারা অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার প্রথম ধাপ হিসাবে অনেকেই ফেসবুক পেজ খুলে অনলাইনে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। ফেসবুক পেজ হয়ত অনেকেই খুলতে পারেন। কিন্তু কিভাবে একটি পেজ পরিপূর্ণ ভাবে সেটআপ করতে হয় জানেন না। অনলাইনে নিজের উপস্থিতি বড় বিষয় নয় , গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা যেন একটা প্রোফেশনাল লুক পরিলক্ষিত হয়।
পেজ খোলার আগে একবার পড়ে নিন যদি নতুন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন। বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেটিংস এর কথা এখানে তুলে ধরা হল।
১। পেজের নাম এবং ইউজার নেমঃ আপনার ব্যবসার সাথে মিল রেখে পেজের নাম ঠিক করুন। পেজ খোলার সময় পেজের নাম এবং ইউজার নেম একই রাখুন। তবে পেজ খোলার আগেই ফেসবুকে গিয়ে সার্চ করে দেখুন যে আপনার পছন্দকৃত নামটি কেউ ব্যবহার করেছে কিনা। অনেক সময় পেজের নাম available থাকে এবং username available থাকে না। আবার কখনো কখনো username available থাকে কিন্তু পেজের নাম available থাকে না।
পেজের নামে সার্চ করুন ফেসবুক পেজের সার্চবার থেকে।
আর username সার্চ করুন ব্রাউজারের সার্চ বার থেকে। উদাহরণঃ
www.facebook.com/(write your selected user name)
অনেকেই হয়ত ব্যবসা বড় হবার সাথে সাথে ওয়েবসাইটও খুলবেন। তাঁরা পেজের নাম available আছে কিনা সার্চ করার সাথে সাথে ডোমেন নেম টা available আছে কিনা সার্চ করে নেবেন। আর পেজ খোলার সাথে সাথে ডোমেন টাও কিনে নিবেন। অনেকে ভাবছেন যে পরে কিনবেন কিন্তু অনেক সময় পরে কিনতে গেলে দেখা যায় ঐ ডোমেন টা অন্য কেউ কিনে ফেলেছে। সেক্ষেত্রে ঐ নামে ডোমেন আর আপনি পাবেন না।
২। ক্যাটাগরি সিলেকশনঃ আপনার ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী ক্যাটাগরি সেট করুন। সর্বমোট ৩ টা ক্যাটাগরি সেট করতে পারবেন। তবে আপনার ব্যবসার প্রধান ক্যাটাগরি সবার প্রথমে লিখবেন। কারণ পেজের শুরুতেই পেজের নামের নিচে পেজের username এর সাথেই পেজের ক্যাটাগরি দেখা যায় এবং About সেকশনে সবগুলো দেখা যায়।
৩। লোগো ও কভার ফটোঃ বাংলাতে একটা প্রবাদ আছে, আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী। সেজন্য লোগো এবং কভার ফটো যেন প্রফেশনাল হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। লোগো এবং কভার ফটো খুব বেশি কালারফুল করে হিজিবিজি করবার দরকার নেয়। বরং খুবই সাধারণ তবে ক্রেতার মনযোগ আকর্ষণ করতে পারে এবং আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর কভার ফটোতে স্লাইড শো, ভিডিও এবং ছবি এ্যাড করা যায়। তবে তাতে যেন আপনার বিজনেস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায় সেদিকটা খেয়াল রাখবেন।
৪। About সেকশনঃ আপনার ব্যবসা সম্পর্কে সুন্দর করে ২৫৫ অক্ষরের ভেতর বর্ণনা লিখুন। যেন সেটা আপনার পেজে যারা আসবে তাঁদের দৃষ্টিগেচর হয়। বর্ণনা অংশের পরে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নাম্বার, ইমেল, ওয়েবসাইটের URL (যদি থাকে তবে add করলে বিশ্বস্ততা বেড়ে যায়), লোকেশন ইত্যাদি যা যা আছে ঠিক মত পূরণ করে ফেলুন।
৫। Call-to-action button : Call-to-action button এ নিজের পছন্দ মত বাটন সংযুক্ত করুন। তবে সেক্ষত্রে আপনার ব্যবসা এবং আপনার ক্রেতার কথা বিবেচনায় রেখে বাটন সেট করলে সব থেকে ভাল হবে।
৬। Shop tab বা service tab setup: আপনি যদি পণ্য বিক্রি করতে চান তাহলে Shop tab এবং যদি সার্ভিস নিয়ে কাজ করেন তবে service tab সেট করুন। সেটা অবশ্যই Home tab এর পরেই রাখবেন। তাহলে সুন্দর মত আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস উপস্থাপন করতে পারবেন। তবে যদি অন্য কোন সেক্টর নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনার পছন্দ মত tab সংযুক্ত করতে পারেন।
৭। ম্যাসেজ অফশনে গিয়ে ইনস্ট্যান্ট রিপ্লাই এবং অটো রেসপন্স বা চ্যাট বট add করুনঃ ইনস্ট্যান্ট রিপ্লাই এবং অটো রেসপন্স এ্যাড করলে ক্রেতার সাথে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা যায় এবং চ্যাট বট এ্যাড করলে সেটি আপনার ভার্চুয়াল এ্যাসিসটেন্ট হিসাবে কাজ করবে। মানে ক্রেতা আপনাকে কি ধরণের প্রশ্ন করতে পারে সে ধরণের কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর সেট করতে হবে। ক্রেতা সেই প্রশ্ন করলে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে উত্তর আসবে। এভাবে করলে সম্পৃক্ততা আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে।
পর্ব চলবে…………………
১ম পর্ব: ফেসবুক পেজের পরিপূর্ণ সেটআপ
২য় পর্ব : ফেসবুক শপের কার্যক্রম এবং সেটআপের (A to Z)
৩য় পর্বঃ ফেসবুক পেজে কিভাবে পণ্যের বিবরণ লিখবেন যা এনগেজমেন্ট বাড়াবে
৪র্থ পর্বঃ ফেসবুকের properties ব্যবহার করে নেটওয়ার্কিং বাড়ান
৫ তম পর্বঃ Facebook Page grow করার জন্য মার্কেটিং প্লান

