উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথমে ফেসবুক পেজ নাকি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কোনটি বেশি প্রয়োজন ?

উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথমে ফেসবুক পেজ নাকি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কোনটি বেশি প্রয়োজন ?

এই দুইটার কোনটাই প্রয়োজন নেই। বাক্যটা দেখে কি চোখ ছানা-বড়া হয়ে গেল? সত্যি বলছি, মজা করছি না। নিজেকে ৩ টা প্রশ্ন করুন।

  • আপনি কি সত্যি ব্যবসাটা করতে চাচ্ছেন?
  • ব্যবসার জন্য আপনি কত ঘন্টা সময় দিতে পারবেন লাগাতার ভাবে এবং ব্যর্থ হলেও ঠিক কয় মাস বা বছর লেগে থাকবেন ?
  • যেই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন তার চাহিদা নিয়ে গ্রাহকদের কাছে প্রশ্ন করে যাচাই-বাছাই করেছেন কি?

সাথে আরো দুইটা প্রশ্ন করুন।

  • অপমান সহ্য করতে পারবেন তো?
  • তর্কে না জড়িয়ে হাসি মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন তো?

এবার উপরের হেড লাইনে যে প্রশ্ন করেছি তার উত্তর দেবার পালা।

বিজ্ঞানের ভাষায় বিদ্যুৎ (কারেন্ট ) সবসময় কোন পথ দিয়ে যায় জানেন? আপনি হয়ত বলবেন, হ্যাঁ জানি তো তারের ভেতর দিয়ে যায়। তারের ভেতর দিয়ে যায় কথাটা ঠিক কিন্তু আসলে কথা হলো বিদ্যুৎ (কারেন্ট )  সব সময় সহজ পথে যায়। মনে করুন বিদ্যুৎ (কারেন্ট ) যদি ছোট বা  সহজ কোন পথ পায় তাহলে তাড়াতাড়ি করে সেই পথ দিয়েই চলা শুরু করে।

এবার আপনি বলুন। আপনার কাছে সহজ পথ কোনটা?

উত্তরঃ  ফেসবুক। তাছাড়া আপনি সহ অনেকেই এই ফেসবুক ব্যবহার করে। সেজন্য নিজের পণ্য বা সার্ভিসের মার্কেটিং করার জন্য এটি ভালো একটি প্লার্টফর্ম ।    

আচ্ছা তাহলে ই-কমার্স সাইট কেন প্রয়োজন?

ফেসবুক পেজে যে ব্যবসাটা আপনি করছেন তার বিশ্বস্ততা বাড়ানোর জন্য। কারণ অনেকেই ফেসবুক পেজ খুলে ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় যে তাঁরা ক্লায়েন্টের সাথে প্রতারণা শুরু করে দেয়। এতে করে অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা ফেসবুক পেজে গিয়ে আগে ওয়েবসাইট আছে কিনা দেখে নেয়। কারণ যারা টাকা-পয়সা খরচ করে ওয়েবসাইট বানিয়েছে। তাঁরা নিশ্চয় ব্যবসা করার উদ্দেশ্য নিয়েই করেছে। তাছাড়া নিজের পণ্যকে ব্র্যান্ড হিসাবে দাড় করানোর জন্য এটি ভালোভাবে কাজ করে। তাছাড়া আপনি পণ্য বা সার্ভিসের ছবি এবং বর্ণনা দিয়ে সেটা সব ধরণের সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারেন। আপনার কাছে কয়টি প্রোডাক্ট আছে বা নাকি সব বিক্রি হয়ে গেছে এবং সেই সাথে যাবতীয় আয়- ব্যয়ের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

এবার আসুন একটি পরিসংখ্যান দেখি। ইস্টাটিস্ট্রা এর রিপোর্ট অনুসারে ২০২০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত একটিভ সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার ৩.৮১ বিলিয়ন এবং একটিভ ইন্টারনেট ইউজার ৪.৫৭ বিলিয়ন। তার মানে বুঝতেই পারছেন সোশ্যাল মিডিয়া বাদেও অনেক ইউজার আছেন যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এবং তাঁদেরকে আপনার ক্লায়েন্ট বানাতে চাইলে ওয়েবসাইট থাকলে অবশ্যই ভালো হবে।

আচ্ছা আমরা অনেকেই নতুন উদ্যোক্তা। অর্থ সংকট আছে। তাই ফেসবুক পেজ খোলার কতদিন পর খোলা উচিত?

দেখুন আমরা জানি যে যারা নতুন উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের অনেকেরই অর্থ সংকট থাকে। কিন্তু তাই বলে এটা নয় যে শুরুতেই আপনাকে সব করতে হবে। আগে ছোট পরিসরে শুরু করন। মানে ফেসবুক পেজ দিয়ে। ৫-৬ মাস ধরে ফেসবুক পেজ চালিয়ে দেখুন আপনার পেজে মানুষজন এনগেজ হচ্ছে কিনা বা ক্রেতাদের রেসপন্স পাচ্ছেন কিনা বা সামান্য পরিমাণে বিক্রি শুরু হয়েছে কিনা। তখন যদি আপনি বুঝতে পারেন যে হ্যাঁ আপনার বিজনেস সঠিক পথে আছে তাহলে একটি ই-কমার্স সাইট খুলে ফেলুন। সবাইকেই যে বেশি টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করতে হবে এমন নয়। ১৫-২০ হাজারের একটা বাজেট করে মোটামুটি দাড় করাতে পারবেন। তারপর আস্তে আস্তে বিজনেস ডেভেলপ করলে সেটাকে আবার নতুন করে বানিয়ে নিতে পারেন বা সেটাকে আপডেট করে নিতে পারেন। মনে রাখবেন টেকনোলোজি কিছুদিন পর পরই পরিবর্তন হয়। তাই একটা সাইট যত টাকা দিয়েই বানান না কেন সেটাকে নিয়মিত আপডেট করতে হয়।

এখন প্রশ্ন হলো অনেকদিন ফেসবুক পেজ খুলেছেন কিন্তু বিক্রি নেই। কেন হয় না জানেন?

 আসুন কিছু সহজ প্রশ্নের উত্তর খুঁজি-

  • পেজের নাম ব্যবসার সাথে সংযুক্ত কিনা এবং URL ঠিক আছে কি ?
  • পেজে লোগো  কি ঠিক আছে ?
  • কভার ফটো কি আপনার বিজনেসকে পুরোপুরিভাবে তুলে ধরতে সক্ষম?
  • About সেকশনে সব ইনফরমেশন আছে তো?
  • Short Story নিয়মিত আপডেট করছেন?
  • FAQ আছে?
  • Product description প্রোফেশনাল ভাবে দিয়েছেন তো?
  • প্রতিদিন নিজের আশে-পাশের মানুষদের নিজের পেজের বা ব্যবসার কথা বলেন তো?
  • নিজের পেজের উন্নতি করার জন্য প্রতিদিন কয় ঘন্টা সময় ব্যয় করেন?
  • পেজের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য অন্যান্য পেজে বা গ্রুপে বা কমিউনিটিতে নিজের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য এবং মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করার চেষ্টা করছেন তো?
  • নিত্য-নতুন পণ্য এবং নিত্য-নতুন তথ্য দিতে পারছেন তো পেজ থেকে?
  • ক্লায়েন্টদের সাথে মার্জিত এবং আন্তরিকতার কথা বলুন। সেটা নিয়মিত করছেন তো?
  • শেষ প্রশ্ন নিজেকে একজন কাস্টমার হিসাবে কল্পনা করুন যে আপনি ক্লায়েন্ট হলে আপনার পেজ থেকে কিনতেন কিনা?

আধুনিক যুগে নিজেই নিজের ঢোল পেটানো খারাপ কিছু না। তবে সেখানে যেন মিথ্যার আশ্রয় না থাকে এবং কেউ যেন প্রতারিত না হয়। সেই সাথে নিজের ঢোল কত সুন্দর smartly বাজাচ্ছেন সেটাও দেখার বিষয়। সৎ থাকুন এবং আপডেট থাকুন।

ব্যবসা করতো গেলে গদবাধা কিছু নিয়ম মানলেই চলবে না। নিয়মিত সেটা উন্নতি করার চেষ্টা করতে হবে। নতুন নতুন ধারণা ও টেকনিক নিয়ে কাজ করতে হবে এবং সেটা প্রয়োগের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে হবে। সবশেষে বলতেই হবে নিজের চেষ্টা অব্যহত রাখুন এবং ধারাবাহিকভাবে পরিশ্রম করুন। বাকিটা সৃষ্টিকর্তা দেখবেন।