করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ৭-ই এপ্রিল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে “করোনা বিপর্যয়ে বিশ্বের পাঁচজন কর্মজীবীর চারজনই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। লকডাউনের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্টান ও কারখানা পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ থাকায় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে ৩৩০ কোটি কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ৮১ শতাংশ এমন অবস্থায় আছেন।” কিন্তু এই সময়টাকে যদি আমরা কাজে লাগিয়ে টেকনোলোজিকে নিজেদের আয়ত্তে আনতে পারি তাহলে কিন্তু আমরা ব্যবসা ক্ষেত্রে নতুন এক দ্বার উন্মোচন করতে পারবো। কোন ধরণের তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জন্য আর্শিবাদ হতে পারে আসুন সেটা একটু দেখেনি।
**ই-কমার্স ওয়েবসাইট**
সারা বিশ্ব আজ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত এই ই-কমার্স ব্যবসাকে খুব স্বাদরে গ্রহণ করেছে। ই-কমার্স কে আজ সারা বিশ্ব ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ মাধ্যম হিসাবে মেনে নিয়েছে। তাহলে আমাদের দেশ কেন পেছনে থেমে থাকবো? আমরাও গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
বাংলাদেশে বহুল জনপ্রিয় ইংরাজী দৈনিক পত্রিকা দ্যা ডেইলি স্টার তাদের ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রকাশিত পত্রিকায় বিশ্বের এক নাম্বার ব্যবসায়ী ডাটা গবেষণা প্রতিষ্টান স্ট্যাটিস্টা (Statista) এর ই-কমার্সের উপর করা সার্ভে তুলে ধরেছে।
সেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ই-কমার্সের মার্কেট সাইজ ১,৬৪৮ মিলিয়ন ডলারের এবং ২০২০ সালে সেটা ২,০৭৭ মিলিয়ন ডলারের হবে।
জার্মানির একটি গবেষণা সংস্থা সম্প্রতি বলেছে যে, ই-কমার্স মার্কেট বর্তমানে ১.৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ২০২৩ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে।
**ই-কমার্স সাইটের সুবিধা কী?**
• স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু- আপনাকে যে দোকান বা শো-রুম করতেই হবে এমন নয়। তাছাড়াও আপনি নিজের পণ্যের পাশাপাশি অন্যের পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন।
• ব্যয় সংকোচন- দোকান বা শো-রুম থাকলে তার ভাড়া, স্টার্ফদের বেতন, অন্যান্য খরচ অনেক কমে আসবে।
• উপযুক্ত লাভে পণ্য বিক্রয়- প্রচলিত ব্যবসা করতে গেলে মাথায় রাখতে হয় যেমনঃ দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মীদের বেতন, অন্যান্য খরচ। কিন্তু এই খরচ কমে গেলে আপনি কাস্টমারের নাগালের ভেতর পণ্য বিক্রি করে উপযুক্ত লাভ করতে পারবেন।
• সময় এবং কষ্টলাঘব- ই-কমার্স সাইটে যেহেতু সব ধরণের পণ্যের বিবরণ, দাম ইত্যাদি বিস্তারিত থাকে তাই প্রচলিত দোকানের মত অধিক কষ্ট হয় না এবং সময় বেঁচে যায়। যা আপনি অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারবেন।
• ই-কমার্সে দোকান খোলা ২৪/৭/৩৬৫- আপনার ই-কমার্সের সাইট যেহেতু সব সময় খোলা থাকে তাই কাস্টমার বছরে ৩৬৫ দিনের যেকোন সময়ে অর্ডার দিতে পারবে। হরতাল, সরকারী বা বেসরকারী ছুটি এবং অন্যান্য ছুটিতেও আপনার ই-কমার্স সাইট বন্ধ থাকার সুযোগ নেয়।
• কাস্টমারের সথে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি- আপনি যদি সততার সাথে গণগত মানসম্মত পণ্য বিক্রয় করেন তাহলে তাহলে আপনার কাস্টমার আপনাকে ভালো রিভিউ দিবে। তাতে করে অন্য নতুন কাস্টমারের আপনার ই-কমার্স সাইটের পণ্যের প্রতি ভালো ধারণা জন্মাবে। এভাবেই কাস্টমারের সাথে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার ব্যবসায়ে উন্নতি হবে।
• নিজের পণ্যের ব্যান্ড তৈরি করা- আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি ই-কমার্স সাইটে নিজের পণ্যের ব্যান্ডিং করতে পারেন তাহলে সারা বিশ্বে আপনার প্রসার ঘটবে। তাছাড়াও আপনি আপনার ওয়েবসাইটে একটি পণ্য আপলোড করে সব ধরণের সোশ্যাল মিডিয়াতে সেটা শেয়ার করতে পারবেন। এতে করে আপনার কষ্ট এবং সময় দুটোই বাঁচবে। তাছাড়াও মনে রাখবেন বিশ্বের অনেক দেশই ফেসবুক বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াকে সেভাবে এক্সেস দেয় না। তাই আপনার যদি একটি ই-কমার্স সাইট থাকে তবে সারা বিশ্বের মানুষ আপনার ওয়েবসাইট দেখতে পারবে এবং পণ্য কিনতে পারবে তার সাথে বিশ্বস্ততাও বৃদ্ধি পাবে।
**আপনার ই-কমার্স সাইট যদি জনপ্রিয় হয়ে যায় তখন আপনার ই-কমার্স সাইটের পাশাপাশি আরো কিছু ওয়েব বেইজ সফটওয়্যার দরকার হবে। এতে করে আপনার যে কাজগুলো সহজ থেকে সহজতর হবে-
• ম্যানুয়ালি যে কাজগুলো করতেন সেগুলো অটোমেটেড হয়ে যাবে
• সময় বাঁচবে
• শারীরিক পরিশ্রম কম হবে
• আপনার স্টকে কী পরিমাণ পণ্য আছে তা এক ক্লিকে বুঝতে পারবেন
• দিন শেষে বা মাস শেষে অথবা বছর শেষে যেকোন ধরণের রিপোর্ট তৈরি করতে পারবেন
• হিসাব নিকাশে স্বচ্ছতা আসবে
• আপনি কারো কাছে টাকা পাবেন কিনা বা কেউ আপনার কাছে পাবে কিনা সেটা মুহূর্তের ভেতর জানতে পারবেন
• আপনার পণ্যের টোটাল কস্টিং কত হবে সেটা বুঝতে পারবেন
• আগের বছরের হিসাব বের করে ভবিষ্যতের ব্যবসার পরিকল্পনা সাজাতে পারবেন
• পণ্য নিয়ে সহজেই গবেষণা করতে পারবেন
• অটোমেটিক্যালি পণ্যের আয়-ব্যয় থেকে লাভ অথবা ক্ষতির হিসাব পেয়ে যাবেন
• পণ্য সাপ্লাই চ্যানেলের কোথায় আটকে আছে সেটা দেখতে পারবেন
• আপনার যদি ডিলারশিপ ব্যবসা হয় তাহলে তাদের ব্যবসার তাৎক্ষণিক তদারকি সম্ভব
• স্টার্ফদের বেতন প্রসেস করতে খুব স্বল্প সময় লাগবে
**ব্যবসার কোন কোন সেক্টরের জন্য কী কী সফটওয়্যার দরকার তার তালিকা নিচে দেওয়া হল।
• Administration & Organization management software
• Human Resources management software
• Finance & Reporting software
• Marketing & Sales monitoring software
• Communication software
• Production & Warehouse Management software
• Payment & E-Commerce Software
• IT-Security software
**ভার্চুয়াল ওয়ার্ক প্লেস**
যারা এই করোনা পরস্থিতিতে ঘরে বসে কাজ করছেন তাদের জন্য ভার্চুয়াল একটি ওয়ার্ক প্লেস দরকার। এই ওয়ার্ক প্লেস গুলোতে আপনারা একে অন্যের সাথে তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরণ করতে পারবেন, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আদান-প্রদান করতে পারবেন, একটা নির্দিষ্ট প্রজেক্টে অনেকজন মিলে কাজ করার সুযোগ পাবেন, আলাদা-আলাদা প্রজেক্টের মানুষকে আলাদা-আলাদা গ্রুপে এ্যাড করতে পারবেন। তাছাড়াও রয়েছে টাস্ক ম্যানেজমেন্ট, ইউজার রোল, এক্সেস ম্যানেজমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি। নিচে আমরা একটা লিস্ট আকারে দেখানোর চেষ্টা করলাম এবং তার সাথে এদের রেটিং ও তুলে ধরলাম।
• Slack (rating 4.5 out of 5)
• Microsoft Teams (rating 4.2 out of 5)
• Cisco Webex Teams (rating 4.2 out of 5)
• Telegram (rating 4.5 out of 5)
• Workplace by Facebook (rating 4.0 out of 5)
• Quip (rating 4.2 out of 5)
** ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার**
বাসায় থেকে বা রিমোট কোন জায়গা থেকে কাজ করলে অনেক সময় মিটিং করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। কারণ দরকারী কিছু বিষয় আছে যা মিটিং ছাড়া বোঝানো সম্ভব হয় না। তাছাড়াও ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার জন্য, বিভিন্ন দিক নির্দেশনা, ফাইল শেয়ারিং, প্রেজেন্টেশন, মিটিং চলাকালীন সময় তাৎক্ষণিক বার্তা প্রেরণ, স্কিন শেয়ারিং, মিটিং রেকডিং ইত্যাদি করার জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে কিছু ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যারের লিস্ট ও রেটিং দেওয়ার চেষ্টা করা হল-
• Zoom (rating 4.5 out of 5)
• GoToMeeting (rating 4.2 out of 5)
• Cisco Webex Meetings (rating 4.2 out of 5)
• Microsoft Teams (rating 4.2 out of 5)
• GoToWebinar (rating 4.7 out of 5)
• Google Hangouts Meet (rating 4.3 out of 5)
• join.me (rating 4.2 out of 5)
• TeamViewer (rating 4.5 out of 5)

