প্রথমেই জানা ভাল এই পোষ্টটা কাদের জন্যঃ
১। কাপড়ের ব্যবসা/ পোশাকের ব্যবসা
২। সানগ্লাসের/ চোখের চশমার ব্যবসা
৩। মেকাপের ব্যবসা
৪। মেডিকেল সেক্টর
৫। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবসা
৬। সেলুন
৭।
৮।
৯।
.
.
.
…………………………………………………………………
তার মানে এভাবে চলতেই থাকবে। আমি মাত্র কয়েকটা এখানে উল্লেখ করলাম। বাকিটা আপনাদের জন্য ফাঁকা রেখে দিলাম।
পৃথিবীর পরিবর্তনশীল। আর সেই ধারাবাহিকতায় সব কিছুতেই পরিবর্তন ঘটে। তেমনি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেও পরিবর্তন ঘটেছে। সাম্প্রতিক করোনা পরিস্থিতি আমাদের আবারো চোখে আঙ্গুল দিয়ে নতুন করে শিখতে বাধ্য করেছে। অনেকের হয়ত ক্ষতি হয়েছে কিন্তু ইতিহাস বলে যখন নতুন কোন বাঁধা এসেছে সেখান থেকেই নতুন সম্ভবনাও তৈরি হয়েছে।
এখন সারা বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দাড় প্রান্তে। তাই ব্যবসা বাণিজ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া চিন্তা করা মানে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা। যদি উদাহরণ দিতেই হয় তবে বলতে হবে বিখ্যাত কোডাক ক্যামেরার কথা, নোকিয়া মোবাইলের কথা। এমন হয়ত অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে যারা কিনা প্রযুক্তির সাথে নিজেকে আপডেট করতে পারেনি। তাই হয়ত কেউ হারিয়ে গেছে বা কেউ হয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু সাফল্য তাদের পাস কাটিয়ে যাচ্ছে।
এবার আসল কথায় আসা যাক—-
প্রচলিত দোকানে কী কী ধরণের সমস্যা হয়ে থাকে উদাহরণ দিয়ে একটু তুলে ধারবার চেষ্টা করবো—-
১। মনে করুন আপনি চশমার দোকানদার। কোন ক্রেতা আপনার দোকানে এসে কী করে?
বলে এই চশমা দেখান, ঐ চশমা দেখান, ঐ কালার দেখান, সেই কালার দেখান, নিদির্ষ্ট ধরণ দেখিয়ে বলে এই ধরণের আছে নাকি। এমন আরো সাত সতেরো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে। এভাবে যদি করতেই থাকে তাহলে কিন্তু কিছুক্ষণ পর আপনার বিরক্তির উদ্দেক সৃষ্টি হয়।
আবার অনেক কাস্টমার আছে তাঁরা অনেক সময় সেভাবে বলতে পারে না বা অনেকে বার বার দেখাতে বলতে লজ্জাবোধ করে।
এভাবে করে অনেক সময় দোকানের পণ্যের সাথে কাস্টমারের সামঞ্জস্য ঘটে না। হতে পারে যেই পণ্য সে চাইতেছে সেটা সেখানে নেই অথবা কাস্টমার ঠিকভাবে বলতে পারছে না বলে পণ্য থাকা শর্তেও দোকানদার সেটা দেখাতে ব্যর্থ হলেন। এতে করে অনেক সময় নষ্ট যেমন হয় তেমনি রাগারাগির সৃষ্টি হবারও সম্ভাবনা থেকে যায়।
২। ধরুন আপনি ড্রেসের ব্যবসা করেন। আর ঈদের জন্য বেচাকেনা করছেন। তখন যদি কাস্টমাররা বলে এই ড্রেস না সেই ড্রেস, এই কালার না সেই কালার, আবার ট্রাইল দিতে চাই অনেকেই, কিন্তু এমনও অনেকে আছে সে ট্রাইল দেবার পরও বলে না পছন্দ হয় নাই। তাহলে বলুন তো আপনার কেমন লাগবে? অনেক বড় বড় দোকান আছে যাদের স্পেশাল উৎসবের জন্য নতুন নতুন অনেক লোক নিয়োগ দেওয়া লাগে।
এবার তাহলে ভেবে দেখুন সব কিছু মিলে কেমন একটা হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এবার আসুন সমাধানের দিকে নজর দেয়-
এক কথায় উত্তর হল এর সমাধান হচ্ছে- অগমেন্টেড রিয়্যালিটি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
কোন টেকনিক্যাল ভাষা ব্যবহার না করে আমরা সাধারণ ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবো। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে একটি জীবন্ত বাস্তবতা বা রিয়্যালিটি তৈরি করবার চেষ্টা করা হয়। যাতে করে খুব সহজেই সেই ব্যাপার অথবা জিনিসের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
যেমনঃ ধরুন আপনি বাস্তবে কোন চশমা চোখে না দিয়েই সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেখে নিলেন যে কোন চশমাতে আপনাকে কেমন মানাচ্ছে। মানে সেই সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের ক্যামেরাতে ফোকাস করলেই মনে হবে আপনি বাস্তবেই চশমা পড়ে আছেন এবং আপনাকে কেমন লাগছে। এতে করে আপনার কাস্টমার আপনাকে কোন ভাবে বিরক্ত করার সুযোগ পাবে না। সেই সাথে সময় বেঁচে যাবে। ক্রেতারা বাসায় বসেই যেকোন দোকানের চশমা নিজের পছন্দ মত দেখে এবং বুঝে কিনতে পারবে।
তেমনি ভাবে যেকোন ড্রেস পছন্দ করলে এবং পড়লে কেমন লাগবে সেটা আর বাস্তবে পড়ে দেখার প্রয়োজন হবে না। সেই সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেরই তাকে পড়লে কেমন লাগবে বুঝে নিতে পারবে এবং পছন্দ মত কিনতে পারবে। এতে করে ক্রেতা এবং বিক্রেতার উভয়েরই কষ্ট লাঘব হবে এবং সময় বেঁচে যাবে।
আর মজার ব্যাপার হচ্ছে ফেসবুকের প্রতিষ্টাতা মার্ক জুকারবার্গ কিছুদিন আগেই ফেসবুক শপ সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে এই অগমেন্টেড রিয়্যালিটি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কথা তুলে ধরেছেন।
তাই নিজের ব্যবসা সম্পর্কে যেমন সচেতন হচ্ছেন তেমনি কোন কোন টেকনোলোজি আপনার ব্যবসাতে প্রয়োগ করতে হবে সেই সম্পর্কেও আপনাকে জানতে হবে। সাফল্যের মন্ত্র ঠিক একটাই- হয় নিজেকে আপডেট রাখুন, না হয় হারিয়ে যান।

